এম এ আলম, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:করোনাভাইরাস নিয়ে যখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষজন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। ঠিক তখনও বেসরকারি এনজিও সংস্থা আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক, টিএমএসএস, এসএসএস, সুরা, জাগরণী চক্র, প্রত্যাশী সহ বিভিন্ন এনজিওগুলো তাদের বিতরণ করা ঋণের কিস্তি তোলা বন্ধ করেনি। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। কোভিড-১৯ নভেল করোনা ভাইরাসের বিপদ অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে শ্রমজীবি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আয় ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছে। এই সময়টিতে চাল-ডাল, পেয়াজ-রসুন, আদা, সবজি সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসার চালাতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু এই বিরূপ সময়টিতেও ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারি স্থানীয় ছোট-বড় এনজিওগুলো তাদের সাপ্তাহিক ঋণ (কিস্তি) কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এমতাবস্থায় সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে ঋণ গ্রহণকারি দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত দুর্যোগের এই সময়টিতে ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য ঋণ গ্রহীতাদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে। কিন্তু তাদের সমস্যার কথা কানেই তুলছে না এনজিওগুলো। ফলে বিশেষ করে শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের মানুষরা কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে এনজিওদের চাপে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দেশের যেসব এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন, আগামী জুন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি দিতে না পারলে তাদের খেলাপি করা যাবে না। গত রোববার (২২ মার্চ) ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে অনেকে নিয়মিত ঋণ শোধ করতে না-ও পারেন। ফলে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুন-২০২০ইং পর্যন্ত কোনো গ্রাহক যদি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে তাদের ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ঋণকে নিয়মিত রেখে প্রয়োজনে নতুন ঋণ দিতে হবে। তবে কোনো ঋণের অর্থ পরিশোধিত হলে ওইসব ঋণের মান যথাযথভাবে উন্নীত করা যাবে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও ব্যাংকিং খাতের কোনো গ্রাহক জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো ঋণের কিস্তি বা ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তাদেরকে খেলাপি করা যাবে না- এ মর্মে একটি সার্কুলার জারি করা হয়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের আয় ও কাজের পরিধি কমে যাওয়ায় জনস্বার্থে জেলার আওতাধীন সকল এনজিও’র ঋণের কিস্তি আদায় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও জেলার বিভিন্ন স্থান সহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আজও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে কিস্তি আদায়ের ক্যাপসনসহ ছবি ভাইরাল হয়েছে। উপজলার বিভিন্ন স্থান থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য গ্রাহক মোবাইলে অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, সন্ধ্যার পরেও কোনো কোনো এনজিও কর্মীরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে কিস্তির টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এ বিষয়ে একাধিক এনজিও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের মোবাইলে কল করে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলে তারা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে মোবাইল কেটে দেন। প্রত্যাশী নামে একটি এনজিও এর এক ফিল্ড অফিসারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি আপনারা ব্যবস্থা নেন বলে মোবাইল সংযোগটি কেটে দেন। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, “সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী জুন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ কার্যক্রম সহজ করা হয়েছে। কোন ঋণ গ্রহিতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত এনজিও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Please follow and like us:
error0
Tweet 20
fb-share-icon20